Saturday, October 28, 2017

মেসিবিহীন বার্সার সহজ জয়

প্রথম একাদশে ছিলেন না লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, লুইস সুয়ারেজ, পাওলিনহো, মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন। তারপরও জয় পেতে সমস্যা হয়নি বার্সেলোনার। কোপা দেল রের প্রথম লেগে রিয়াল মুর্সিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। বার্সার হয়ে এদিন গোল করেন প্যাকো আলকেসার, ডেউলফিউ ও হোসে আরনেইজ। 
দুর্বল রিয়াল মুর্সিয়া প্রথমার্ধে দারুণ পরীক্ষা নেয় বার্সেলোনার। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কিছুতেই ভাঙতে পারছিলেন না সেমেদো-গোমেজ-আলকেসাররা। এর মধ্যে বার্সার রক্ষণেও ভীতি ছড়াতে শুরু করেছিল মুর্সিয়া। গোলের দেখা পেতে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বার্সাকে। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে চমৎকার এক হেডে মুর্সিয়ার গোলরক্ষককে বোকা বানান প্যাকো অ্যালকেসার। 
এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বার্সেলোনা। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে প্রায় একক প্রচেষ্টায় মুর্সিয়ার জালে বল পাঠান ডেউলফিউ। গোল করতে প্রতিপক্ষের চার-পাঁচজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন এই তারকা। এর মাত্র চার মিনিট পর আবার গোল পায় বার্সেলোনা। ৫৬ মিনিট ডি-বক্সের ঠিক ভেতর থেকে বুলেট গতির শট করেন হোসে আরনেইজ। 

এই জয়ে কোপা দেল রের শেষ ষোলোয় ওঠার পথে এগিয়ে গেল গতবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। আগামী ২৯ নভেম্বর বার্সেলোনার মাঠ কাম্প ন্যুয়ে হবে দ্বিতীয় লেগ।
Zilhazz

Friday, October 27, 2017

শ্রীলঙ্কার দুর্দশা চলছেই

টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হারালেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কিছুতেই পেরে উঠছে না শ্রীলঙ্কা। ৫-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজটা খোয়ানোর পর টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কানদের বেহাল দশা অব্যাহত রয়েছে। আবুধাবিতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরেছে লঙ্কানরা। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয় থিসারা পেরেরার দল। জবাবে তিন উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই দিলশান মুনাবিরাকে ফেরান ইমাদ ওয়াসিম। চতুর্থ ওভারে অপর ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকাকে আউট করেন উসমান খান। দলীয় ৫১ রানে সাদিরা সামারাবিক্রমা সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। হাসান আলী ও মোহাম্মদ হাফিজের দারুণ বোলিংয়ে ১০২ রান করতেই অলআউট হয় সফরকারীরা। সর্বোচ্চ ২৩ রান করে করেন সেকুগে প্রসন্ন ও সামারাবিক্রমা। ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন হাসান আলী। এ ছাড়া উসমান খান ও হাফিজ নেন দুটি করে উইকেট।
Sports All
 ১০৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানেরও।  ১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তবে শোয়েব মালিক ও আহমেদ শেহজাদের ৪৬ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে দলটি। শেহজাদ ২২ রান করে ফিরলেও অন্যপ্রান্তে হাফিজ ছিলেন অবিচল। শোয়েব মালিকের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি বেঁধে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। ৩১ বলে ৪২ রান করেন শোয়েব মালিক। এ ছাড়া হাফিজ অপরাজিত ছিলেন ২৫ রানে।
টি-টোয়েন্টির সর্বশেষ সর্বশেষ ২১ ম্যাচে পাকদের এটি ১৭তম জয়। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার খারাপ ফর্ম চলছেই। গত ১২ মাসে খেলা ২৯টি ওয়ানডের ২২টিতেই হেরেছে দলটি। টানা ১৪ ম্যাচে জয়হীন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গত ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর পাঁচ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে শ্রীলঙ্কা। শুক্রবার একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে পেরেরার দল।
Sports All

তবুও অখুশি ডি ভিলিয়ার্স!

তাঁর ব্যাটে পিষ্ট হয়েই প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা হেরেছে বাংলাদেশ। টাইগার বোলারদের ছাতু বানিয়ে ২৭ বলে ৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। এই ঝড়ো ইনিংসের কাছেই হেরে বসে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও যায় এবির পকেটে। তবে এতকিছুর পরও তৃপ্ত নন এই তারকা ব্যাটসম্যান।
প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আউট নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে এবি ডি ভিলিয়ার্সের। আরো কিছুক্ষণ উইকেটে থাকা উচিত ছিল বলে মনে করেন এই বিস্ফোরক ক্রিকেটার। তিনি বলেন, আরো কিছুক্ষণ টিকে থাকা দরকার ছিল। রানটা ৭০-এর বেশি হলে ভালো লাগত। আসলে আমি হতাশ। তখন আউট হওয়াটা আসলেই হতাশার। উইকেটে পেস ও বাউন্স ছিল। আমি ভালোভাবেই বলটা দেখছিলাম। আর কিছুক্ষণ উইকেটে থাকলে রানটা ২০০-এর বেশি হতো তবে সুযোগটা কাজে লাগানো যায়নি।
হাফ সেঞ্চুরি মিস করলেও দল জিতেছে বলে ভালো লাগছে এবির। এখন থেকে তিন নম্বরেই ব্যাটিং করার কথা ভাবছেন তিনি। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘এই ফরম্যাটটা আমার বেশ পছন্দের। আর তিন নম্বরে ব্যাটিং করাটা বেশ কাজে দিচ্ছে। প্রথম ওভারগুলোকে বেশ ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়।’
Seo Expert

Wednesday, October 25, 2017

পুরোনো রূপে ফিরবেন মোস্তাফিজ, আশা ওয়াকারের

ওয়াকার ইউনিসের স্মৃতিতে ম্যাচটা ভালোভাবেই থাকার কথা। ২৪ এপ্রিল ২০১৫, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ সিরিজের টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হলো ২০ বছর বয়সী মোস্তাফিজুর রহমানের। ২০ রানে ২ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকটা স্মরণীয় করে রেখেছিলেন বাঁ হাতি এ পেসার। ওয়ানডের পর সেবার বাংলাদেশের কাছে টি-টোয়েন্টিও হারল পাকিস্তান।
কোচ হিসেবে ওয়াকারের বাংলাদেশ সফরটা যে ভীষণ বাজে হয়েছিল, আজ ঢাকায় পা রেখে সে কথাই বললেন পাকিস্তানের এ বোলিং কিংবদন্তি, ‘ওই সফরটা আমার জন্য ভালো ছিল না। তবে আবারও এসে ভালো লাগছে।’
ওয়াকার এবার এসেছেন বিপিএলের দল সিলেট সিক্সার্সের পেসার অন্বেষণ কর্মসূচিতে। কদিন আগে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করেছে এই কর্মসূচি। চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পাওয়া বোলারদের মধ্য থেকে সেরাদের নির্বাচন করবেন ওয়াকার। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কাজ করতে এলেও পাকিস্তানের সাবেক কোচ কথা বললেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে। তাঁর কথায় উঠে এল মোস্তাফিজ প্রসঙ্গ।
আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেই যিনি শুধু বিস্ময় উপহার দিয়েছেন, তাঁকে সেই আগের ছন্দে দেখা যাচ্ছে কোথায়! দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের অন্য বোলারদের মতো মোস্তাফিজও মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে। চোটে পড়ে পরে তো ওয়ানডে সিরিজই খেলতে পারলেন না ২২ বছর বয়সী এই পেসার। শুরুর ধারটা এখন না দেখা গেলেও ওয়াকারের আশা শিগগিরই দেখা যাবে আগের মোস্তাফিজকে, ‘মোস্তাফিজ দ্রুত দৃশ্যপটে এসেছে। তার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। তবে নিজের উন্নতি করতে হবে। তা না হলে অন্যরা আপনাকে ধরে ফেলবে। এখনকার ক্রিকেটাররা অনেক স্মার্ট। নিজের যদি উন্নতি না হয়, যদি কঠোর পরিশ্রম না করেন, আপনাকে ভুগতে হবে। সব খানেই এটা দেখা যাচ্ছে। মোস্তাফিজ বিরাট প্রতিভা, সন্দেহ নেই। সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো খেলেছে, আইপিএলে ভালো করেছে। আমি নিশ্চিত, আবারও সেই একই মোস্তাফিজকে দেখা যাবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ কেন টানা ব্যর্থ, সে প্রসঙ্গও নিয়েও কথা বললেন ওয়াকার। প্রোটিয়াদের কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেসাররা কেন ভালো করতে পারলেন না, ওয়াকার সেটির বিশ্লেষণ করলেন এভাবে, ‘আপনি যদি আগ থেকেই অভ্যস্ত না হন, দক্ষিণ আফ্রিকা কন্ডিশন ফাস্ট বোলারদের জন্য সহজ হবে না। দুই টেস্ট খেলেই ওই কন্ডিশনে ভালো করা যায় না। সেখানে মানিয়ে নিতে ওই কন্ডিশনে দীর্ঘদিন খেলতে হবে।’ দেশের বাইরে ভালো করতে বাংলাদেশকে বিদেশের মাটিতে বেশি ম্যাচ খেলার পরামর্শও দিয়েছেন ওয়াকার।

Tuesday, October 24, 2017

ভোটের ব্যবধানেও বেশ পিছিয়ে ছিলেন মেসি!

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবারও ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার হতে পারেন, সেটা আগেই অনুমেয় ছিল। জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবলে গত একটি বছর অসাধারণ সাফল্য ছিল তাঁর। জিতেছেনও, টানা দ্বিতীয়বার ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার পান। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে, তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন এই পর্তুগিজ উইঙ্গার।
ফিফার সদস্যভুক্ত দেশগুলোর কোচ, অধিনায়ক ও সাংবাদিকরা মিলে এবার ৪৫৯ ভোট দিয়েছেন। সেখানে রোনালদো পেয়েছেন ৩৪০ ভোট আর মেসি পেয়েছেন মাত্র ৫৫ ভোট। মেসির এত বিশাল ব্যবধানে পরাজয় সত্যিই অবাক করার মতো।
ভোটের হিসাবে নির্ধারণ হয় পয়েন্ট। সেখানে রোনালদো ১৮৮৮ ও মেসি পান ৮২৩ পয়েন্ট।
বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়া নেইমারও খুব বেশি ভোট পাননি। তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৫ ভোট। সে হিসেবে তিনি পয়েন্ট পেয়েছেন ২৯৮টি।
এ ছাড়া চতুর্থ স্থানে থাকা জুভেন্টাসের বুফন পেয়েছেন ৮ ভোট এবং বার্সাতে মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ পান ৪ ভোট। উরুগুয়ের স্ট্রাইকার হয়েছেন নবম।

ডিসেম্বরে কোহলি-আনুশকার বিয়ে?

প্রায় দুই বছর হয়েছে প্রেমের সম্পর্ক। আগে লুকোচুরি করলেও এখন আর তাও করছেন না। নিজেদের সম্পর্কের কথা জনসমক্ষে স্বীকার করছেন বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা। প্রায় সময়ই দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। আর কোহলির খেলা থাকলে মাঠেও দেখা যায় আনুশকাকে। তাঁদের এই সম্পর্ক বিয়েতে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে নাকি বিয়ের পিঁড়িতে বাসতে পারেন এই তারকা জুটি।
দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাত দিয়ে জিনিউজ জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে খেলতে চান না কোহলি। তিনি বোর্ডের কাছে ছুটি চেয়েছেন। ডিসেম্বরে বিয়ের জন্যই নাকি কোহলি এই ছুটি চেয়েছেন বলে দাবি করেছে তারা। তবে কোহলি ও আনুশকার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি।
২০১৩ সালে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করার সুবাদে আনুশকার সঙ্গে বিরাট কোহলির ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। গত বছরের শুরুর দিকে দুজনের একবার ছাড়াছাড়ি হয়েছিল বলে শোনা গিয়েছিল। এরপর আবার দুজনকে একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গা দেখা যায়।
অবশ্য আনুশকার সঙ্গে এই সম্পর্ক নিয়ে কম সমালোচনা সইতে হয়নি কোহলিকে। মাঝখানে কোহলির ব্যর্থতার জন্য সমর্থকরা আনুশকাকে দায়ী করেছিলেন। বিশেষ করে গত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের সময় তাঁদের নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হয়েছিল। সে সময় কোহলিও এর জাবাব দিয়েছিলেন,  ‘একজন মানুষ হিসেবে বলতে চাই, আমি ভীষণ আহত হয়েছি। যারা আমাদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলেছে এবং যে ভঙ্গিতে বলেছে, তাদের নিজেদের নিয়েই লজ্জিত হওয়া উচিত। এ ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব হতাশ

একসময়ের বিখ্যাত আম্পায়ার এখন চোর!

মানুষের জীবনটাও বড় বিচিত্র। আজ রাজা তো কাল ফকির। ড্যারেল হেয়ারের বেলায় কথাটি একেবারে শতভাগ প্রযোজ্য। সাবেক বিতর্কিত এই আম্পায়ার এখন এতটাই অর্থসংকটে ভুগছেন যে, নেশার অর্থ জোগান দিতে চুরি করতে হয়েছে তাঁকে। এমন তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। চুরির দায়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এই আম্পায়ার। তবে জেলে যেতে হয়নি তাঁকে। মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে মুক্তি পান তিনি।  
সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর একটি পানশালায় চাকরি নিয়েছিলেন ড্যারেল হেয়ার। এ ছাড়া প্রায়ই জুয়ার আড্ডায় বসতেন তিনি। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পানশালা থেকে অর্থ আত্মসাত করতে শুরু করেন হেয়ার। তবে সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়ে যান তিনি। এর পরই তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সেই সঙ্গে ড্যারেল হেয়ারের ওপর মামলা ঢুকে দেন পানাশালা কর্তৃপক্ষ।

চুরি করা নয় হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন এই আম্পায়ার। হেয়ারের বিরুদ্ধে আগে এমন কোনো অভিযোগ না থাকায় তাঁকে জেলে যেতে হয়নি। তাঁর আইনজীবী বলেন, ‘আমার মক্কেল অনেকদিন দেশের সেবা করেছেন। তবে নৈতিক স্থলন ঘটেছে তাঁর। দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করার কারণে আদালত তাঁকে এবারের মতো ক্ষমা করেছেন।’

১৯৯৫ সালে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বিপক্ষে নো বলের অভিযোগ এনে প্রথমবারের মতো বিতর্কিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে ওভাল টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেনাল্টি রান দেওয়ার ঘটনায় উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচে ইংল্যান্ডকে জয়ী ঘোষণা করেছিলেন ড্যারেল হেয়ার। সেই ঘটনার জেরে হেয়ারকেও অফিশিয়াল ম্যাচ পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আইসিসি। 

পরের বছর ড্যারেল হেয়ারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে আবার আম্পায়ারিংয়ে ফেরেন তিনি। ২০০৮ সালে কানাডা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়েই আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে মাঠে নামেন অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার। ১৯৯২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ৭৮টি টেস্ট পরিচালনা করেছেন এই আম্পয়ার।

Monday, October 23, 2017

বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সতর্ক সংকেত’


আগের দুই ম্যাচে ১০ উইকেট ও ১০৪ রানে হারের পর শেষ ওয়ানডেতে ২০০ রানে হার। সিরিজ শেষে মাশরাফি জানান, নিজেদের খেলায় ক্রিকেটাররা নিজেরাই সবচেয়ে হতাশ।

“শুধু আজকের ম্যাচ না, আগের দুই ম্যাচেও নিজেদের খেলা নিয়ে আমরা নিজেরাই হতাশ। যা হয়েছে তা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকেই হয়ে আসছে। আমাদের দ্রুত উন্নতি করতে হবে। এই কন্ডিশনে এসে খেলা আমাদের দ্রুত শিখতে হবে। নইলে দেশের বাইরে যে টুর্নামেন্ট আছে বা দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ আছে সেগুলো আসলে কঠিন হয়ে যাবে।”
২০১৪ সালে মাশরাফি নেতৃত্বে আসার পর এত বাজে সিরিজ কেটেছে খুব কমই। এমন হারে অধিনায়ক দেখছেন বিপদ সংকেত।
“ওদের সঙ্গে মূল্যায়ন করলে আমরা সব জায়গায় পিছিয়ে ছিলাম। এখানে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারিনি। খুব বাজেভাবে ম্যাচ হেরেছি। আমার মনে হয়, এই সময়টা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অবশ্যই সতর্ক সংকেত। আমরা যারা খেলোয়াড় আছি তাদের এদিকে নজর দিতে হবে। নয়তো সামনের সিরিজ বা টুর্নামেন্টগুলো খুব কঠিন হবে।”
দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। এত বাজে ফলের মধ্যেও মাশরাফি ইতিবাচক একটি বিষয় দেখছেন।
“এটা আমাদের জন্য ভালো হল, শেখার একটা ব্যাপার হল। আমরা বোলাররা দায়িত্ব নিতে পারিনি। অবশ্যই ব্যাটসম্যানরাও দায়িত্ব নিতে পারিনি। আমার মনে হয়, আমাদের সব খেলোয়াড়েরই বের করা উচিত আমরা কোন কারণে পারছি না। সেটা বের করতে পারলে আমার মনে হয়, সেদিকে জোর দেওয়া দরকার।”
“শেষ যে কয়দিন আছে, অসাধারণ অনুশীলন করেও এখান থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। এটা দীর্ঘ একটা প্রক্রিয়া। সামনে এই ধরনের কন্ডিশনে কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্ট খেলতে সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে।”
পেসারদের বল সুন্দরভাবে ব্যাটে এসেছে। তারপরও এত কম রানে গুটিয়ে যাওয়া মানতে পারছেন না মাশরাফি।
“ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কোথাও আমরা ভালো কিছু করতে পারিনি। এখানে যা করতে পারতাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় সেটাও করতে পারিনি। এই ব্যাটিং অপ্রত্যাশিত তো অবশ্যই। ব্যাটিং অবশ্যই হতাশাজনক। আরও বড় রান করা দরকার ছিল।”

রোনালদোর গোলখরায় চিন্তিত নন জিদান


সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে রোববার লা লিগায় এইবারের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে জালের দেখা পাননি রোনালদো। আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্কো আসেনসিও। শেষ দিকে জয় নিশ্চিত করেন মার্সেলো।

গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২টি গোল করা রোনালদো এবারের লা লিগায় জ্বলে উঠতে পারছেন না। লিগে এখন পর্যন্ত করেছেন মাত্র এক গোল। এইবারের বিপক্ষে সহজ কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি।
তবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঠিকই গোল পেয়ে যাচ্ছেন রোনালদো। গ্রুপ পর্বে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে ৫টি গোল করে ফেলেছেন পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ড। ৩২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো লা লিগাতেও জালের মুখ দেখবে বলে বিশ্বাস জিদানের।
“ক্রিস্তিয়ানো গোল না করতে পারলে চিন্তা করার দরকার নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে গোলের সুযোগগুলো পাচ্ছে।”
“ক্রিস্তিয়ানো তার প্রজন্মের সেরা খেলোয়াড়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে পার্থক্য গড়ে দেয়। সে যেসব পুরস্কার জিতেছে এর সবকিছুরই যোগ্য সে।”
“ধীরে ধীরে গোল আসবে। ম্যাচটিতে সাবলীলতার অভাব ছিল আমাদের। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, আমরা জিতেছি এবং কোনো গোল খাইনি।”
নয় ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগায় তৃতীয় স্থানে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল। ৫ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভালেন্সিয়ার পয়েন্ট ২১।

প্রথম দিনে তিন রেকর্ড। দ্বিতীয় দিনে চার রেকর্ডসহ পাঁচ ইভেন্টে সোনা জয়। এবারের বয়সভিত্তিক সাঁতারে লন্ডন থেকে আসা জুনাইনা আহমেদ রীতিমত চমক উপহার দিয়ে চলেছেন। ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরী স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়ার।

অনূর্ধ্ব-১৭ বছর বয়সী বালিকা বিভাগের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে রেকর্ড গড়া দিয়ে শুরু জুনাইনার। রোববারই রেকর্ড গড়ে জিতেছেন ২০০ মিটার ইনডিভিজুয়াল মেডলি ও ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের স্বর্ণপদক। সোমবার দ্বিতীয় দিনে ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকেও সোনা জিতে শুরু। পরে ৪০০ মিটার ইনডিভিজুয়াল মেডলি, ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও বাটারফ্লাই এবং ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সেরা হতে রেকর্ড গড়েছেন।

‘রেকর্ড নিয়ে ভাবি না’
জুনাইনা এই সাফল্যে একটুও বিস্মিত নন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন, শুধু নিজের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সুইমিং পুলে নেমেছিলেন। দিতে পেরেছেন এবং রেকর্ড হয়ে গেছে!
“আসলে আমি রেকর্ড বা সেরা হওয়ার চিন্তা করে পুলে নামি না। আমি শুধু আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাকে অবশ্যই আরও ভালো টাইমিং করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। যদি সুযোগ পাই, তাহলে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেব। বাবা এটা খুব করে চান।”
০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও বাটারফ্লাই এবং ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইল প্রিয় ইভেন্ট জুনাইনার। অলিম্পিক সোনাজয়ী সাঁতারু যুক্তরাষ্ট্রের কেটি লেডেকি তার আদর্শ। গত এসএ গেমসে বাংলাদেশকে দুটি স্বর্ণ এনে দেওয়া মাহফুজা খাতুন শীলাকেও চেনেন তিনি। এই সফলদের সামনে রেখে অনুশীলন করার কথা জানালেন এ উঠতি সাঁতারু।
“আমি সারা বছরই অনুশীলন করি। কোনো বিরতি দেই না। দিনে অন্তত চার ঘণ্টা অনুশীলন করি। সপ্তাহে সাতদিনই। এখানে এসে অল্পসল্প যা দেখেছি-আমার মনে হয়, আমি এখানকার সাঁতারুদের চেয়ে দশগুণ বেশি অনুশীলন করি।”
মেয়েকে ঘিরে বাবার স্বপ্ন
২০০১ সালে বিয়ে করে সুনামগঞ্জ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি জমান জুবায়ের আহমেদ। তিন মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সেখানেই গুছিয়ে নিয়েছেন সংসার। কিন্তু নাড়ির টান ভোলেননি। দেশের জন্য নিজে কিছু করতে পারেননি বলে মেয়েকে দিয়ে স্বপ্ন পূরণের স্বাদ পেতে চাইছেন। লন্ডন থেকে মিরপুরের সুইমিংপুল পর্যন্ত আসতে পার হওয়া ঝক্কি ঝামেলা তাই আর মনে রাখতে চাইছেন না তিনি। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানালেন সাঁতারু মুস্তাফিজুর রহমান সাগরকেও। তার মাধ্যমে সাঁতার ফেডারেশনের সঙ্গে হয়েছে যোগাযোগটা।
“মেয়ে সাঁতারু হবে, ওইভাবে আসলে কখনও চিন্তা করিনি। ও দৌড়েও ভালো। আসলে খেলাধুলায় মেয়েকে উৎসাহী করে তোলা…যাতে সে ফিট থাকে। ওর বয়স যখন সাত বা আট তখন দেখা গেল, ও দ্রুত সাঁতার শিখছে এবং ভালো করছে। নিজে তো দেশের জন্য কিছু করতে পারিনি কিন্তু যখন মেয়ে ভালো করতে লাগল, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ওকে দেশের হয়ে খেলানোর।”
“সিলেটে, বিকেএসপিতে অনেকের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। তবে এখানকার সাঁতারের খোঁজ রাখতাম। লন্ডন অলিম্পিকে যখন সাগর ভাই অংশ নিতে গেলেন, তখন ফেইসবুকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। উনি খুব ইতিবাচক ছিলেন এবং অনুপ্রাণিত করেছিলেন। এভাবেই যোগসূত্রটা তৈরি হয়।”